ইসলামাবাদের নিয়ন্ত্রণাধীন কাশ্মীর (আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর) ও গিলগিট-বালতিস্তানে কি সত্যিই বাড়ছে অসন্তোষ? নাকি এটি কেবল সাময়িক রাজনৈতিক অস্থিরতা? সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বলছে, অঞ্চল দুটিতে অর্থনৈতিক সংকট, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে ক্ষোভ নতুন মাত্রা পেয়েছে।
পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর (আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর) এবং গিলগিট-বালতিস্তানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনৈতিক সংকট, বিদ্যুতের উচ্চ মূল্য, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের অভাব এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে জনঅসন্তোষ বেড়েছে। এসব ইস্যুতে একাধিকবার বিক্ষোভ, ধর্মঘট ও গণসমাবেশ হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
২০২৪ সালে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরে কয়েক দিনের টানা আন্দোলনের পর পাকিস্তান সরকার বিদ্যুতের দাম কমানো এবং গমে অতিরিক্ত ভর্তুকি দেওয়ার ঘোষণা দেয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি ছিল স্থানীয় জনগণের অর্থনৈতিক দাবির প্রতি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাড়।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ কাজ করছে—
গিলগিট-বালতিস্তানেও দীর্ঘদিন ধরে সাংবিধানিক মর্যাদা, ভূমির অধিকার এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠন আন্দোলন করে আসছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা ধরনের দাবি থাকলেও, এখন পর্যন্ত এমন কোনো স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি যা নিশ্চিতভাবে দেখায় যে একটি নির্দিষ্ট বিদেশি রাষ্ট্র বা একক গোষ্ঠী এসব আন্দোলনের মূল পরিচালনাকারী।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েকটি বিষয় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে—
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, কেবল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার মাধ্যমে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক সংস্কার, স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন, রাজনৈতিক সংলাপ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতেও এমন অস্থিরতা ফিরে আসতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতি পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। আগামী দিনে সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আলোচনা এবং নীতিগত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে সংকট কোন দিকে এগোবে।