বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দারুণ শুরু করেছিল মিসর। ম্যাচের শুরুতেই গোল করে এগিয়ে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। তবে শেষ পর্যন্ত নাটকীয়ভাবে ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ভিএআরের দুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে, যেগুলোকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মিসর শিবির।
প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা পেনাল্টি পেলেও সেটিকে গোলে রূপ দিতে পারেননি লিওনেল মেসি। ফলে লিড ধরে রেখে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে মিসর।
বিরতির পর ৬০ মিনিটে ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্তটি উপহার দেন মিসরের স্ট্রাইকার মোস্তাফা জিকো। মাঝমাঠ থেকে একক প্রচেষ্টায় কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশে বল জালে জড়ান তিনি। কিন্তু গোল উদযাপন বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পরামর্শে মাঠের রেফারি পুনরায় ঘটনাটি পর্যালোচনা করেন। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল পুনরুদ্ধারের সময় এনজো ফার্নান্দেজের পায়ে সংস্পর্শের ঘটনা ঘটেছে। সেই ঘটনাকে ফাউল হিসেবে বিবেচনা করে গোল বাতিল করা হয় এবং আর্জেন্টিনা ফ্রি-কিক পায়।
মিসরের অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দু অবশ্য ম্যাচের যোগ করা সময়ের একটি ঘটনা। ৯২ মিনিটে মোহামেদ সালাহ আর্জেন্টিনার পেনাল্টি বক্সে ঢুকে শট নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক তখনই পেছন থেকে চ্যালেঞ্জ আসে প্রতিপক্ষের একজন খেলোয়াড়ের। সালাহ মাটিতে পড়ে গেলেও রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
এরপরই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠে আর্জেন্টিনা। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে লওতারো মার্টিনেজের তৈরি করা আক্রমণ থেকে এনজো ফার্নান্দেজ হেডে জয়সূচক গোল করেন। মিসরের খেলোয়াড়রা ভিএআর পর্যালোচনার দাবি তুললেও রেফারি সেটি গ্রহণ করেননি।
এই দুই সিদ্ধান্তের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি করে মিসর শিবির। তাঁদের মতে, একটি ক্ষেত্রে সামান্য সংস্পর্শকে ফাউল ধরা হলেও অন্য ক্ষেত্রে একই ধরনের ঘটনার পরও কোনো পর্যালোচনা হয়নি।
শেষ বাঁশি বাজার পর মিসরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা রেফারির সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কয়েকজন খেলোয়াড় এবং প্রধান কোচ হোসাম হাসানকে হলুদ কার্ড দেখান ম্যাচ কর্মকর্তা।
তবে উল্লেখ্য, ম্যাচের এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে মিসর শিবির আপত্তি জানালেও রেফারি বা টুর্নামেন্ট আয়োজকদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।