চট্টগ্রাম, ১০ জুলাই: টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলার বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। জেলার ১৫টি উপজেলার মধ্যে অন্তত সাড়ে ৪ লাখ মানুষ এখন পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। বানের জলে ভেসে গিয়ে বাঁশখালীতে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে।
সরকারি হিসাব ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, বন্যার সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার ওপর দিয়ে। এই দুই উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা এখন পানির নিচে।
বাঁশখালীতে প্রাণহানি: আজ শুক্রবার সকালে বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে ভেসে গিয়ে মিরাজ (৫) ও আশিক (৬) নামের দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
সাতকানিয়ায় কার্যালয়গুলোও পানির নিচে: সাতকানিয়ায় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও এমন ভয়াবহ বন্যা দেখা দিল। উপজেলার তিন লাখের বেশি মানুষ গৃহবন্দি। শুধু মানুষের বসতবাড়িই নয়, বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায়। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে দাপ্তরিক কার্যক্রম।
সাতকানিয়া-বাঁশখালী ছাড়াও চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। গ্রামীণ সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ায় জেলা সদরের সাথে অনেক এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বন্যার্ত এলাকাগুলোতে বর্তমানে তীব্র আকার ধারণ করেছে:
বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট
শুকনা খাবারের অভাব
জরুরি চিকিৎসা সহায়তার অপ্রতুলতা
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ তৎপরতা শুরু করেছে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন:
"জেলার ১৫টি উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি আছেন। উদ্ধার তৎপরতা, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় (অ্যালার্ট) রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত প্রতিটি পয়েন্টে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে টিম কাজ করছে।"
নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও ছুটি বাতিল: পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ প্রতিটি উপজেলায় ২৪ ঘণ্টার জন্য জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ (Control Room) চালু করা হয়েছে, যেখান থেকে সার্বক্ষণিক উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ বিতরণ সমন্বয় করা হচ্ছে।