বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় প্রতারণার মাধ্যমে দেড় লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আপন চাচাতো বোন ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন এক নারী। মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার বাদী উপজেলার শ্রীফলতলা গ্রামের বাসিন্দা সুমনা কুন্ডু। অভিযুক্তরা হলেন তার চাচাতো বোন শুক্লা কুন্ডু (৩৭) এবং শুক্লার স্বামী বাঁশবাড়িয়া গ্রামের খোকন বিশ্বাস (৪০)।
আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক সম্পর্কের সুবাদে অভিযুক্ত শুক্লা কুন্ডু বিভিন্ন সময় বাদীর কাছ থেকে অর্থ ধার নিতেন। একপর্যায়ে তিনি ও তার স্বামী অল্প সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সুমনা কুন্ডুর কাছ থেকে নগদ এক লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও তারা টাকা ফেরত না দিয়ে বারবার সময়ক্ষেপণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিষয়টি সমাধানের জন্য বাদী অভিযুক্তের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার উদ্যোগ নেন। অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কয়েক দফা টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। বরং টাকা ফেরত চাইলে বাদীকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
পরবর্তীতে কোনো প্রতিকার না পেয়ে সুমনা কুন্ডু বাগেরহাটের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।
বাদী সুমনা কুন্ডু দাবি করেন, নগদ অর্থের পাশাপাশি অভিযুক্ত শুক্লা কুন্ডু তার হাতের শাখা ও একটি স্বর্ণের আংটি স্থানীয় এক মিষ্টি ব্যবসায়ীর কাছে বন্ধক রেখে অর্থ নিয়েছিলেন। পরে পরিবারের উদ্যোগে ওই স্বর্ণালঙ্কার ফেরত পেলেও নগদ দেড় লাখ টাকা এখনও ফেরত পাননি। বরং টাকা দাবি করায় তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।