বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার জন্য সহজ জয়ের যে আশা দেখা দিয়েছিল, সেটি শেষ পর্যন্ত ভেঙে দেন সুইজারল্যান্ডের ফুটবলাররা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। লাল কার্ডে একজন খেলোয়াড় হারিয়েও অসাধারণ লড়াই চালিয়ে যায় ইউরোপের দলটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। এর ফলও পেয়ে যায় দ্রুত। ১০ মিনিটে লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার থেকে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার নিখুঁত হেডে গোল করে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এগিয়ে দেন। সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলের কোনো সুযোগ ছিল না সেই শট ঠেকানোর।
শুরুতেই পিছিয়ে পড়লেও ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়নি সুইজারল্যান্ড। ধীরে ধীরে নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে মুরাত ইয়াকিনের শিষ্যরা। প্রথমার্ধেই কয়েকটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তের দুর্বল ফিনিশিংয়ের কারণে সমতায় ফেরা সম্ভব হয়নি।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক রূপ নেয় সুইসরা। ৫০ মিনিটে একটি ভালো সুযোগ নষ্ট করার পর ৬৫ মিনিটে ড্যান এনদোয়ের হেড অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।
তবে দুই মিনিট পর আর রক্ষা হয়নি। ৬৭ মিনিটে দ্রুতগতির একটি দলীয় আক্রমণ থেকে ড্যান এনদোয়ে ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। গোলের পর উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে সুইজারল্যান্ড শিবির।
সমতায় ফেরার পর ম্যাচে নতুন নাটকীয়তা যোগ হয় ৭২ মিনিটে। ব্রিল এমবোলো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন, ফলে বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় সুইজারল্যান্ডকে। একই ঘটনার পর লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে দেখানো হলুদ কার্ডটি রেফারি বাতিল করে দেন।
একজন কম নিয়েও রক্ষণে দৃঢ়তা দেখায় সুইজারল্যান্ড। অন্যদিকে সংখ্যাগত সুবিধা পেলেও নির্ধারিত সময়ে জয়ের গোল আদায় করতে ব্যর্থ হয় আর্জেন্টিনা। ফলে ১-১ সমতায় শেষ হয় ৯০ মিনিটের লড়াই এবং ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য দুই দলকে নামতে হয় অতিরিক্ত সময়ের পরীক্ষায়।