রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩
Faridpur Today

অতিরিক্ত সময়ের গোলে সুইসদের হারিয়ে সেমিতে আর্জেন্টিনা



অতিরিক্ত সময়ের গোলে সুইসদের হারিয়ে সেমিতে আর্জেন্টিনা
১১২ মিনিটে আলভারেসের গোলে ম্যাচে ফেরে আর্জেন্টিনা। ছবি: এএফপি

বিশ্বকাপের নকআউট মঞ্চে আবারও নিজেদের চ্যাম্পিয়নসুলভ মানসিকতার প্রমাণ দিল আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ে জয় নিশ্চিত করতে না পারলেও অতিরিক্ত সময়ে দুই গোল করে ৩-১ ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল।

কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণের ছন্দে ছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১০ মিনিটে লিওনেল মেসির কর্নার থেকে দারুণ হেডে গোল করেন আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। সেই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের দশম অ্যাসিস্টের রেকর্ডও গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

গোলের পর কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। সেই সুযোগে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে সুইজারল্যান্ড। যদিও প্রথমার্ধে বলের দখল বাড়ালেও গোলের পরিষ্কার সুযোগ খুব বেশি তৈরি করতে পারেনি তারা। ফলে ১-০ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের গতি। সুইজারল্যান্ড আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে এবং ৬৭ মিনিটে সেই চেষ্টার ফল পেয়ে যায়। রিকার্দো রদ্রিগেসের সঙ্গে চমৎকার সমন্বয় থেকে বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান ড্যান এনদোয়ে।

ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৭২ মিনিটে। প্রথমে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখালেও ভিএআরের সহায়তায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন রেফারি। ঘটনাটি পুনরায় দেখে ব্রিল এমবোলোকে অভিনয়ের অভিযোগে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন তিনি। ফলে শেষ প্রায় ২০ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় সুইজারল্যান্ডকে।

সংখ্যাগত সুবিধা পেলেও নির্ধারিত সময়ে জয়ের গোল আদায় করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়েও একের পর এক আক্রমণ চালায় তারা। গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল অসাধারণ সেভে মেসি, থিয়াগো আলমাদা ও ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে দেন। তখন ম্যাচ টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল।

কিন্তু বদলি খেলোয়াড় হিসেবেই নায়ক হয়ে ওঠেন হুলিয়ান আলভারেস। অতিরিক্ত সময়ের ১১২ মিনিটে হোসে মানুয়েল লোপেসের পাস থেকে বক্সের বাঁ দিক থেকে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে কোবেলকে পরাস্ত করেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলটি করেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে।

গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে আক্রমণে ওঠে সুইজারল্যান্ড। তবে অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা মুহূর্তে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। থিয়াগো আলমাদার প্রথম শট কোবেল ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বলে লাউতারো মার্টিনেজ সহজেই বল জালে পাঠিয়ে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনা শিবির। কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ধৈর্য, অভিজ্ঞতা এবং সুযোগ কাজে লাগানোর সক্ষমতা দেখিয়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আবারও সেমিফাইনালে পৌঁছে জানিয়ে দিল, নকআউট পর্বে তাদের বিপক্ষে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই শেষ হয় না।

শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে মেতে ওঠেন মেসি ও তাঁর সতীর্থরা। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা আবারও জানিয়ে দিল, নকআউট মঞ্চে তাদের হারানো কখনোই সহজ নয়। বুধবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা।

বিষয় : ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ আর্জেন্টিনা ফুটবল

Faridpur Today

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬


অতিরিক্ত সময়ের গোলে সুইসদের হারিয়ে সেমিতে আর্জেন্টিনা

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬

featured Image

বিশ্বকাপের নকআউট মঞ্চে আবারও নিজেদের চ্যাম্পিয়নসুলভ মানসিকতার প্রমাণ দিল আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ে জয় নিশ্চিত করতে না পারলেও অতিরিক্ত সময়ে দুই গোল করে ৩-১ ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল।

কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণের ছন্দে ছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১০ মিনিটে লিওনেল মেসির কর্নার থেকে দারুণ হেডে গোল করেন আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। সেই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের দশম অ্যাসিস্টের রেকর্ডও গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

গোলের পর কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। সেই সুযোগে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে সুইজারল্যান্ড। যদিও প্রথমার্ধে বলের দখল বাড়ালেও গোলের পরিষ্কার সুযোগ খুব বেশি তৈরি করতে পারেনি তারা। ফলে ১-০ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের গতি। সুইজারল্যান্ড আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে এবং ৬৭ মিনিটে সেই চেষ্টার ফল পেয়ে যায়। রিকার্দো রদ্রিগেসের সঙ্গে চমৎকার সমন্বয় থেকে বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান ড্যান এনদোয়ে।

ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৭২ মিনিটে। প্রথমে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখালেও ভিএআরের সহায়তায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন রেফারি। ঘটনাটি পুনরায় দেখে ব্রিল এমবোলোকে অভিনয়ের অভিযোগে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন তিনি। ফলে শেষ প্রায় ২০ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় সুইজারল্যান্ডকে।

সংখ্যাগত সুবিধা পেলেও নির্ধারিত সময়ে জয়ের গোল আদায় করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়েও একের পর এক আক্রমণ চালায় তারা। গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল অসাধারণ সেভে মেসি, থিয়াগো আলমাদা ও ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে দেন। তখন ম্যাচ টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল।

কিন্তু বদলি খেলোয়াড় হিসেবেই নায়ক হয়ে ওঠেন হুলিয়ান আলভারেস। অতিরিক্ত সময়ের ১১২ মিনিটে হোসে মানুয়েল লোপেসের পাস থেকে বক্সের বাঁ দিক থেকে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে কোবেলকে পরাস্ত করেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলটি করেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে।

গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে আক্রমণে ওঠে সুইজারল্যান্ড। তবে অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা মুহূর্তে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। থিয়াগো আলমাদার প্রথম শট কোবেল ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বলে লাউতারো মার্টিনেজ সহজেই বল জালে পাঠিয়ে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনা শিবির। কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ধৈর্য, অভিজ্ঞতা এবং সুযোগ কাজে লাগানোর সক্ষমতা দেখিয়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আবারও সেমিফাইনালে পৌঁছে জানিয়ে দিল, নকআউট পর্বে তাদের বিপক্ষে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই শেষ হয় না।

শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে মেতে ওঠেন মেসি ও তাঁর সতীর্থরা। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা আবারও জানিয়ে দিল, নকআউট মঞ্চে তাদের হারানো কখনোই সহজ নয়। বুধবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা।


Faridpur Today

সম্পাদকঃ মোঃ হোসাইন শেখ, প্রকাশকঃ ইউ.কে. ধর
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত ফরিদপুর টুডে
অতিরিক্ত সময়ের গোলে সুইসদের হারিয়ে সেমিতে আর্জেন্টিনা
0:00 0:00
1.0x