বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
Faridpur Today

‘স্বপ্নেই দেখেছিলাম গোল করব’— আবেগঘন লাউতারো মার্তিনেজ



‘স্বপ্নেই দেখেছিলাম গোল করব’— আবেগঘন লাউতারো মার্তিনেজ
জয়ের পর মেসির সঙ্গে লাউতারো মার্তিনেস। ছবি: এএফপি

ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। তবে শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেয় আর্জেন্টিনা। প্রথমে এনসো ফের্নান্দেজ সমতা ফেরান, এরপর যোগ করা সময়ে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রসে হেড করে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ। ২–১ গোলের এই নাটকীয় জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয় আলবিসেলেস্তেরা।

বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ম্যাচের নায়ক বনে যাওয়া লাউতারো মার্তিনেজ জানান, গোল করার ব্যাপারে তিনি শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। এমনকি মাঠে নামার আগেই সতীর্থদের কাছে নিজের বিশ্বাসের কথাও জানিয়েছিলেন।

ম্যাচ শেষে লাউতারো বলেন, ‘আমি স্বপ্নেই দেখেছিলাম আমি গোল করব। আলেক্সিস মাক আলিস্টারকে বলেছিলাম আমি গোল করব। বেঞ্চে থাকা ফাকু মেদিনাকেও বলেছিলাম, মাঠে নেমে ম্যাচটা জিতিয়ে দেব। এনসোও দারুণ একটি গোল করেছে।’

তিনি আরও বলেন, শুরুতে ইংল্যান্ডের উচ্চ-চাপের (হাই প্রেসিং) কৌশল আর্জেন্টিনাকে কিছুটা ভুগিয়েছে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় দল।

লাউতারোর ভাষায়, ‘এই দল আবারও প্রমাণ করেছে তারা কতটা মানসিকভাবে শক্ত। প্রায় ৬০ মিনিট ইংল্যান্ড আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এরপর তারা আর সেই গতি ধরে রাখতে পারেনি। গোল করার পর তারা অনেকটা রক্ষণাত্মক হয়ে যায়। তখন আমরা মাঠজুড়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছি এবং শেষ পর্যন্ত দুই গোল করে জয় নিশ্চিত করেছি। সাড়ে তিন বছর পর আবারও আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলতে যাচ্ছি।’

ম্যাচজয়ী গোলের আনন্দের মধ্যেও সংবাদমাধ্যমের সামনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। নিজের ফুটবল জীবনের শুরুর সংগ্রামের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন,

‘এটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা অনুভূতি। বাবা যখন প্রথম আমার জন্য একজোড়া ফুটবল বুট কিনে দিয়েছিলেন, তখন থেকেই এমন একটি গোল করার স্বপ্ন দেখতাম। রাসিং ক্লাবে চলে যাওয়ার পরও মা কখনো আমার বিছানা গুছিয়ে রাখা বন্ধ করেননি। আমার কাছে সেই ভালোবাসার মূল্য যেকোনো গোল বা বিশ্বকাপ ফাইনালের চেয়েও বেশি। আমার দুই সন্তান আমার জীবন বদলে দিয়েছে। এখন আমি প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করার চেষ্টা করি।’

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই নাটকীয় জয় আর্জেন্টিনাকে আরও একটি বিশ্ব শিরোপার লড়াইয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে। এখন ফাইনালে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে লিওনেল মেসির দল।

বিষয় : ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ আর্জেন্টিনা ফুটবল

Faridpur Today

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬


‘স্বপ্নেই দেখেছিলাম গোল করব’— আবেগঘন লাউতারো মার্তিনেজ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। তবে শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেয় আর্জেন্টিনা। প্রথমে এনসো ফের্নান্দেজ সমতা ফেরান, এরপর যোগ করা সময়ে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রসে হেড করে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ। ২–১ গোলের এই নাটকীয় জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয় আলবিসেলেস্তেরা।

বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ম্যাচের নায়ক বনে যাওয়া লাউতারো মার্তিনেজ জানান, গোল করার ব্যাপারে তিনি শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। এমনকি মাঠে নামার আগেই সতীর্থদের কাছে নিজের বিশ্বাসের কথাও জানিয়েছিলেন।

ম্যাচ শেষে লাউতারো বলেন, ‘আমি স্বপ্নেই দেখেছিলাম আমি গোল করব। আলেক্সিস মাক আলিস্টারকে বলেছিলাম আমি গোল করব। বেঞ্চে থাকা ফাকু মেদিনাকেও বলেছিলাম, মাঠে নেমে ম্যাচটা জিতিয়ে দেব। এনসোও দারুণ একটি গোল করেছে।’

তিনি আরও বলেন, শুরুতে ইংল্যান্ডের উচ্চ-চাপের (হাই প্রেসিং) কৌশল আর্জেন্টিনাকে কিছুটা ভুগিয়েছে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় দল।

লাউতারোর ভাষায়, ‘এই দল আবারও প্রমাণ করেছে তারা কতটা মানসিকভাবে শক্ত। প্রায় ৬০ মিনিট ইংল্যান্ড আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এরপর তারা আর সেই গতি ধরে রাখতে পারেনি। গোল করার পর তারা অনেকটা রক্ষণাত্মক হয়ে যায়। তখন আমরা মাঠজুড়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছি এবং শেষ পর্যন্ত দুই গোল করে জয় নিশ্চিত করেছি। সাড়ে তিন বছর পর আবারও আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলতে যাচ্ছি।’

ম্যাচজয়ী গোলের আনন্দের মধ্যেও সংবাদমাধ্যমের সামনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। নিজের ফুটবল জীবনের শুরুর সংগ্রামের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন,

‘এটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা অনুভূতি। বাবা যখন প্রথম আমার জন্য একজোড়া ফুটবল বুট কিনে দিয়েছিলেন, তখন থেকেই এমন একটি গোল করার স্বপ্ন দেখতাম। রাসিং ক্লাবে চলে যাওয়ার পরও মা কখনো আমার বিছানা গুছিয়ে রাখা বন্ধ করেননি। আমার কাছে সেই ভালোবাসার মূল্য যেকোনো গোল বা বিশ্বকাপ ফাইনালের চেয়েও বেশি। আমার দুই সন্তান আমার জীবন বদলে দিয়েছে। এখন আমি প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করার চেষ্টা করি।’

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই নাটকীয় জয় আর্জেন্টিনাকে আরও একটি বিশ্ব শিরোপার লড়াইয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে। এখন ফাইনালে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে লিওনেল মেসির দল।


Faridpur Today

সম্পাদকঃ মোঃ হোসাইন শেখ, প্রকাশকঃ ইউ.কে. ধর
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত ফরিদপুর টুডে
‘স্বপ্নেই দেখেছিলাম গোল করব’— আবেগঘন লাউতারো মার্তিনেজ
0:00 0:00
1.0x