২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতলেও ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে রেফারির দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। একবার ফাউলের কারণে এবং আরেকবার অফসাইডের কারণে স্পেনের দুটি গোল বাতিল হওয়ায় ম্যাচজুড়ে উত্তেজনার পাশাপাশি তৈরি হয় বিতর্কও।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে প্রথম বিতর্কিত মুহূর্তটি আসে নিকো উইলিয়ামসের গোলকে ঘিরে। স্পেনের আক্রমণ থেকে বল আর্জেন্টিনার পেনাল্টি এলাকায় পৌঁছালে মিকেল মেরিনোর চাপে নিকোলাস ওতামেন্দি মাটিতে পড়ে যান। এরপর গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজের সঙ্গে বলের লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন মেরিনো। বলটি গিয়ে পড়ে নিকো উইলিয়ামসের সামনে এবং তিনি সহজেই জালে পাঠিয়ে দেন।
তবে স্পেনের উদযাপন বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ম্যাচের রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ গোলটি বাতিল করে জানান, আক্রমণ গড়ে ওঠার আগে মিকেল মেরিনো আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দির বিপক্ষে ফাউল করেছিলেন।
টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায়, দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে শারীরিক সংস্পর্শ হয়েছিল। রেফারির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বলের দখল নেওয়ার সময় মেরিনোর পা ওতামেন্দির পায়ে লাগে, যা ফাউল হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে স্প্যানিশ ফুটবলাররা এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত ছিলেন না। তাদের দাবি, সংস্পর্শটি ছিল খুবই সামান্য এবং ওতামেন্দি ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত করেছেন। তাদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে গোল বাতিল করার মতো যথেষ্ট কারণ ছিল না।
এর কিছুক্ষণ পর আবারও জালে বল পাঠায় স্পেন। এবার নিকো উইলিয়ামসের পাস থেকে এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করে গোল করেন ফেরান তোরেস। কিন্তু সহকারী রেফারির পতাকা ওঠার পর ভিডিও পর্যালোচনায় নিশ্চিত হয়, গোলের সময় তোরেস অফসাইড অবস্থানে ছিলেন। ফলে দ্বিতীয় গোলটিও বাতিল হয়ে যায়।
যদিও শেষ পর্যন্ত স্পেন ১-০ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপের শিরোপা নিশ্চিত করে, তবুও অতিরিক্ত সময়ে বাতিল হওয়া এই দুটি গোল ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্রথম গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষক ও সমর্থকদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। কেউ রেফারির সিদ্ধান্তকে সঠিক বলছেন, আবার কেউ মনে করছেন, সামান্য সংস্পর্শকে কেন্দ্র করে গোল বাতিল করা অত্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত ছিল।