রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
Faridpur Today

টেকনাফে আকস্মিক বন্যা, ৩৮০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে জরুরি সহায়তা শুরু যুব সংগঠনগুলোর

জালাল উদ্দীন সোহাগ, উখিয়া প্রতিনিধি টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি প্লাবিত, কাঁচা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত এবং নলকূপ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় অঞ্চলটিতে নিরাপদ পানীয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে স্থানীয় যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠন শেয় সোসাইটি, জাইদা বাংলাদেশ এবং ইয়ুথ পিসবিল্ডার্স, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের সহায়তায় জরুরি মানবিক সাড়া কার্যক্রম শুরু করেছে।দুর্যোগের শুরু থেকেই যুব স্বেচ্ছাসেবকেরা স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতা এবং অন্যান্য মানবিক অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছেন। তারা দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, সীমিত পরিসরে খাদ্য ও নিরাপদ পানি বিতরণ, পাহাড়ধসের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি চাহিদা নিরূপণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে অনেক পরিবার নিজ বাড়িতে অবস্থান করলেও রান্না করা, বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ এবং ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী।শেয় সোসাইটির প্রতিনিধি আলম মুহাম্মদ রাসেল জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে গিয়ে তারা দেখেছেন যে মানুষের ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে এবং সবাই তাদের কাছে নিরাপদ খাওয়ার পানির জন্য আকুতি জানাচ্ছেন। মানুষের এই চরম দুর্ভোগের বাস্তবতা দেখে তারা স্থানীয় প্রশাসন, কমিউনিটি ও মানবিক অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। জরুরি সাড়া কার্যক্রমের প্রথম ধাপে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮০টি পরিবার বা প্রায় ১,৯০০ জন মানুষের কাছে শুকনো খাবার, নিরাপদ পানীয় পানি, জরুরি ত্রিপল, ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট এবং নারী ও কিশোরীদের জন্য বিশেষ ডিগনিটি কিট পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি যুব স্বেচ্ছাসেবকেরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রাখবেন, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।জাইদা বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক শাহরুখ করিম বলেন, দুর্যোগের সময় দ্রুত, সমন্বিত এবং মানবিক সাড়া নিশ্চিত করতে যুবদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা শুধু জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন না, বরং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। স্থানীয় প্রশাসন, কমিউনিটি এবং অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর কাছে সময়মতো সহায়তা পৌঁছে দিতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলো জানিয়েছে, চলমান বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই কারণে তারা সরকারি প্রতিষ্ঠান, মানবিক সংস্থা, দাতা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি দ্রুত ও সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে সময়মতো জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।

টেকনাফে আকস্মিক বন্যা, ৩৮০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে জরুরি সহায়তা শুরু যুব সংগঠনগুলোর