ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা: স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি: ফরিদপুরে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবির জেরে স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় স্বামী মো. লালন মোল্লা (৫৪)-কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।রায় ঘোষণার সময় আসামি মো. লালন মোল্লা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ প্রহরায় তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।দণ্ডপ্রাপ্ত লালন মোল্লা ফরিদপুর শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় একটি ভবনের কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিহত সাজেদা বেগম (৪০) ছিলেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী।মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, সাজেদা বেগমের বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের ভাটদি গ্রামে। ২০০৪ সালে তাদের বিয়ে হয়। লালনের আগের সংসারে একটি ছেলে সন্তান থাকলেও সাজেদা-লালন দম্পতির কোনো সন্তান ছিল না।মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই মাদক সেবনের জন্য অর্থের প্রয়োজন দেখিয়ে লালন স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন। এর আগে কয়েক দফায় সাজেদা বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিলেও ২০২২ সালের আগস্টে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন লালন। দাবি পূরণ না হওয়ায় তাকে একাধিকবার মারধর করা হয়।অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট ভোর ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে সাজেদা বেগমকে হত্যা করেন লালন মোল্লা।ঘটনার দিনই নিহতের ছোট বোন মাজেদা বেগম বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় লালন মোল্লাকে একমাত্র আসামি করা হয়।মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জগন্নাথ দাস। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি লালন মোল্লার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।রায়ের পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, যৌতুক একটি গুরুতর সামাজিক ব্যাধি। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আদালতের এই রায় সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং যৌতুকজনিত সহিংসতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।