আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন, স্পেনের দ্বিতীয় শিরোপা জয়
দীর্ঘ সময় বলের দখল, আক্রমণ এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলের দেখা পায়নি স্পেন। তবে অতিরিক্ত সময়ে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে। ১০ জনের আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নেয় স্প্যানিশরা।এর মাধ্যমে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল স্পেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের ট্রফি নিজেদের ঘরে তুলল ইউরোপের এই পরাশক্তি।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্পেন। পঞ্চম মিনিটেই লামিন ইয়ামালের তৈরি করা আক্রমণ থেকে দারুণ সুযোগ আসে। দানি ওলমোর সঙ্গে ওয়ান-টু পাসে বল পেয়ে শট নিলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দৃঢ়তায় গোলের দেখা মেলেনি।প্রথমার্ধজুড়েই স্পেন ছিল পরিষ্কার আধিপত্যে। তারা একের পর এক আক্রমণ চালালেও গোল করতে পারেনি। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা পুরো প্রথমার্ধে লক্ষ্যভেদী তো দূরের কথা, কোনো শটই নিতে পারেনি। বলের দখল ও পাসিং—দুই ক্ষেত্রেই স্পষ্টভাবে এগিয়ে ছিল স্পেন।৪১তম মিনিটে মিকেল ওয়ারজাবালকে ফাউল করে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। চোটের কারণে কিছুক্ষণ পর তাকে মাঠ ছাড়তে হয় এবং বদলি হিসেবে নামেন নিকোলাস ওতামেন্দি। প্রথমার্ধের শেষদিকে স্পেন আরও কয়েকটি আক্রমণ চালালেও ব্যবধান গড়তে পারেনি।বিরতির পরও একই ছন্দ ধরে রাখে স্পেন। আর্জেন্টিনার রক্ষণ ও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে দেন। তবে ম্যাচের যোগ করা সময়ে আর্জেন্টিনা বড় ধাক্কা খায়। স্প্যানিশ খেলোয়াড়ের ওপর বিপজ্জনক ট্যাকল করায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে লাল কার্ডে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। ফলে অতিরিক্ত সময়ে ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় আর্জেন্টিনাকে।অতিরিক্ত সময়ের ৯৬তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামস বল জালে পাঠালেও তার আগে ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। তবে স্পেনের আক্রমণের ধার থামেনি। ম্যাচের ১০৬তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের নিখুঁত পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে জয়সূচক গোল করেন ফেরান তোরেস।গোল হজমের পর সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণ অব্যাহত রাখলেও স্পেনের সুসংগঠিত রক্ষণ ভেদ করতে পারেনি তারা।রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন স্পেনের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সমর্থকরা। ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পরে স্পেন, আর হৃদয়ভাঙা পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে।