মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
Faridpur Today

বিশ্বকাপের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল কাউন্সিল অব ইউরোপ; সংস্কারের আহ্বান

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের স্বচ্ছতা, সুশাসন ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ইউরোপের শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থা কাউন্সিল অব ইউরোপ। সংস্থাটির মহাসচিব অ্যালাঁ বেরসে ফিফার উদ্দেশে প্রকাশিত এক খোলাচিঠিতে অভিযোগ করেন, বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন আর শুধু মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়; বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে টুর্নামেন্টের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে।চিঠিতে তিনি ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফিফার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করার আহ্বান জানান। তার মতে, এখন থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের প্রতি সমর্থকদের আস্থা আরও দুর্বল হতে পারে।বেরসের চিঠিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানকে ঘিরে বিতর্ক। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখায় পরের ম্যাচে তার নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল। তবে টুর্নামেন্ট চলাকালেই সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে ফিফা। পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলের ব্যবধানে হেরে যুক্তরাষ্ট্র টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়, তবুও ফিফার ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়।অ্যালাঁ বেরসে মনে করেন, কোনো বাহ্যিক চাপ বা প্রভাবের কারণে যদি টুর্নামেন্ট চলাকালে শাস্তির সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়, তাহলে তা ফুটবলের ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষতার ওপর বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করে। তার ভাষায়, নিয়ম যদি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য না হয়, তবে প্রতিটি ম্যাচের ফল নিয়েই সন্দেহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।চিঠিতে শুধু বালোগান ইস্যুই নয়, ফিফার সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক নীতির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কাউন্সিল অব ইউরোপের মতে, বিশ্বকাপ শুরুর আগে আবুধাবিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এডিআই প্রেডিক্টস্ট্রিট-এর সঙ্গে ফিফার প্রায় ১৫ কোটি ডলারের স্পনসরশিপ চুক্তি এবং জুয়াশিল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ফুটবলের সততা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।বেরসের দাবি, বর্তমানে শুধু ম্যাচের ফল নয়, একটি কর্নার, একটি হলুদ কার্ড কিংবা নির্দিষ্ট মুহূর্ত নিয়েও বাজি ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে ম্যাচ কারসাজি ও অনৈতিক প্রভাবের ঝুঁকি আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন।তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৮ সাল থেকেই কাউন্সিল অব ইউরোপ ও ফিফার মধ্যে মানবাধিকার, সুশাসন এবং খেলাধুলার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা রয়েছে। সে সময় ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও খেলাধুলার সততা রক্ষার বিষয়ে দুই সংস্থার অভিন্ন অবস্থানের কথা বলেছিলেন। তবে আট বছর পর একই সহযোগী সংস্থার পক্ষ থেকেই ফিফার কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলা পরিস্থিতির গুরুত্বই তুলে ধরছে।খোলাচিঠিতে রেফারিংয়ের মান, বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ এবং বিশ্বকাপ ঘিরে বাড়তে থাকা বেটিং সংস্কৃতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বেরসের মতে, এসব বিষয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে ফুটবলের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।এই প্রেক্ষাপটে ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখনই ফিফা ও কাউন্সিল অব ইউরোপের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সংলাপ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। পাশাপাশি বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে।বিশ্বকাপের মাঠের লড়াই যতটা প্রশংসা কুড়িয়েছে, মাঠের বাইরের বিতর্কও ততটাই আলোচনায় এসেছে। আর সেই প্রেক্ষাপটে ফুটবল বিশ্বের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ কি রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রভাবমুক্ত রেখে আরও স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে আয়োজন করা সম্ভব হবে?

বিশ্বকাপের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল কাউন্সিল অব ইউরোপ; সংস্কারের আহ্বান