ফরিদপুর জেলায় হামের (মিজলস) সংক্রমণ এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৬ জন নতুন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত জেলায় মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৫৬ জনে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ২১ জনের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত একদিনে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৭ জন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ৯ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ সময় জেলার কোনো উপজেলা থেকে নতুন রোগী শনাক্ত না হলেও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মাধ্যমে নতুন ভর্তি অব্যাহত রয়েছে।
হাসপাতালভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগের ভর্তি থাকা ৩২ জনসহ মোট ৫৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় এ হাসপাতাল থেকে ১২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
অন্যদিকে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে নতুন ভর্তি হওয়া ৯ জনসহ বর্তমানে মোট ২৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত একদিনে হাসপাতালটি থেকে ১৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে সর্বাধিক সন্দেহভাজন হাম রোগীর চিকিৎসা হয়েছে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, যেখানে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৮৯৩ জন। এছাড়া ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ হাজার ২৩১ জন।
হাম প্রতিরোধে শিশুদের নির্ধারিত সময়ে এমআর (Measles-Rubella) টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে র্যাশ বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতন থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।