হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আবারও মুখোমুখি অবস্থানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে যাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের খবর সামনে আসছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, ‘অপারেশন নাসর-২’ নামে ১৫ দিনব্যাপী একটি সামরিক অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তার দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন সামরিক তৎপরতার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।ইরানের দাবি অনুযায়ী, অভিযানে অন্তত আটটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় একটি ঘাঁটির ২০টি বিমান হ্যাঙ্গার ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, ড্রোন, রাডার ব্যবস্থা এবং সামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি।তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, পি-৮ পোসেইডন সামুদ্রিক টহল বিমান, সি-১৭ গ্লোবমাস্টার পরিবহন বিমান, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের হ্যাঙ্গার, প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র বাঙ্কার, জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং বিভিন্ন যোগাযোগ ও গোয়েন্দা অবকাঠামো।এছাড়া আইআরজিসি দাবি করেছে, অভিযানে ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহতের সংখ্যা আরও বেশি। তবে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা মার্কিন প্রশাসন গোপন করছে বলেও অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।ইরান আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সংশ্লিষ্ট মার্কিন ঘাঁটিগুলো পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়।অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ইরানের এসব দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার বা নিশ্চিত করেনি। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে হতাহত কিংবা সামরিক ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কেও কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবির কারণে সংঘাতের প্রকৃত চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়। স্বাধীন আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে এসব তথ্য যাচাই না হওয়া পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের দাবিগুলো নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। পরিস্থিতির ওপর আন্তর্জাতিক মহলও নিবিড় নজর রাখছে।