জম্মু-কাশ্মীরে অবিরাম বৃষ্টিতে ভূমিধস ও হড়পা বান। নিহত অন্তত ৩০, আহত ২৩। উত্তর ভারতে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, সড়ক ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। বিস্তারিত পড়ুন।
জম্মু-কাশ্মীরে ভয়াবহ ভূমিধস ও হড়পা বান | নিহত অন্তত ৩০





অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাতে জম্মু–কাশ্মীরে ভূমিধস ও হড়পা বানের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে জম্মুর বৈষ্ণোদেবী যাত্রাপথে বড় ধস নামলে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন আরও অন্তত ২৩ জন।
রিয়াসি জেলার এসএসপি পরমবীর সিং জানিয়েছেন, প্রবল বর্ষণের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে কত মানুষ আটকা রয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উত্তর ভারতে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি
এবার উত্তর ভারতজুড়ে ভয়াবহ বৃষ্টিপাত দেখা দিয়েছে। হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও জম্মু–কাশ্মীর জুড়ে প্রতিদিন কোথাও ভূমিধস, কোথাও হড়পা বান হচ্ছে। এতে শত শত ঘরবাড়ি, ফসল ও কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে। নিহত হচ্ছে মানুষ ও গবাদিপশু।
যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বহু সেতু ও সড়ক ধসে গেছে। বিদ্যুতের খুঁটি, মোবাইল টাওয়ার ও পানীয় জলের পাইপলাইন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জম্মুর ভয়াবহ অবস্থা
তিন দিন ধরে অবিরাম বৃষ্টিতে জম্মুর ডোডা, কিস্তোয়ার, সাম্বা, কাটরা, রিয়াসি, উধমপুর ও জম্মু জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রতিটি নদী বইছে বিপৎসীমার ওপরে। বহু গ্রাম বানের পানিতে ভেসে গেছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী আরও ২–৩ দিন প্রবল বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম
বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে উদ্ধার কাজে নেমেছে। প্রায় ৩,৫০০ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। গুরুতর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
বৈষ্ণোদেবী মন্দির কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার স্বার্থে যাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
হিমাচলের অবস্থা আরও শোচনীয়
হিমাচল প্রদেশের মানালি শহরেও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপাশা নদীর প্লাবনে একাধিক ভবন, হোটেল ও দোকানঘর ভেসে গেছে। মানালি–লেহ সড়কের অনেক অংশ প্লাবিত হওয়ায় শত শত যান আটকে পড়েছে। শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
পরিবহন ব্যবস্থা স্থবির
প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের কারণে জম্মু–কাশ্মীরের রেল ও আংশিক বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আবহাওয়া উন্নতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের পরেই রেল চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।