অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে ভোজ্য তেলের বাজার: ইউক্রেনে রুশ হামলার পর থেকে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বাড়তে থাকে। কারণ রাশিয়া বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশ। মহামারী চলাকালে আন্তর্জাতিক বাজারে যেখানে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ৫০ ডলারের নীচে যুদ্ধের পরে তা ব্যারেল প্রতি ১৩৯ ডলারে গিয়ে ঠেকে। এর ফলে বাংলাদেশেও সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ৪২.৫% থেকে ৫১.৫% বাড়ানো হয়।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব





করোনা মহামারি কাটিয়ে ওঠার পর বাংলাদেশ যখন অর্থনীতিকে সবল করার চেষ্টা করছিলো তখনি শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ।
24শে
ফেব্রুয়ারী,2022 রাশিয়া আক্রমণ করেছে ইউক্রেনে। এতে দুই দেশেরই বহু
সৈন্যের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু যাঁরা এই দুই দেশের বাসিন্দাই নন, থাকেন দেশ
দুটির সীমান্তের বহুদূরে, তাঁরাও যুদ্ধের কারণে সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে
পড়েছেন। বিশেষ করে যাঁদের আয় অল্প, যেসব সরকারের সামর্থ্য সীমিত, আছে
সুশাসনের অভাব, তাঁরাই যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বেশি।
ইউক্রেন
যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি ২ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে ক্ষতি ২
লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলার। যার ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে
যায় ও ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন হতে থাকে। মূল্যস্ফীতির কারণে
জিনিসপত্রের দাম লাগাম ছাড়া হয়ে যায়।
অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে ভোজ্য তেলের বাজার:
ইউক্রেনে
রুশ হামলার পর থেকে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বাড়তে থাকে। কারণ রাশিয়া
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী দেশ। মহামারী চলাকালে
আন্তর্জাতিক বাজারে যেখানে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ৫০
ডলারের নীচে যুদ্ধের পরে তা ব্যারেল প্রতি ১৩৯ ডলারে গিয়ে ঠেকে। এর ফলে
বাংলাদেশেও সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ৪২.৫% থেকে ৫১.৫% বাড়ানো
হয়।
মন্দার ঝুকিতে গার্মেন্টস সেক্টর:
বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতের
অর্ধেকের বেশি বা ৬৪% তৈরি পোশাক রপ্তানি হয় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে।
যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপের অর্থনীতিতে একটি মন্দাভাব চলে আসায় ইউরোপীয়দের
ক্রয়ক্ষমতায় লাগাম পড়েছে। ফলে বাংলাদেশে নতুন অর্ডারের হারও কমেছে। তাছাড়া
চিকিৎসা বা শিক্ষার জন্যও দেশের বাহিরে যেতে পোহাতে হচ্ছে নানান ঝামেলা।
খাদ্যের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ,পড়ছে স্বাস্থ্য ঝুকিতে:
ইউক্রেন
থেকে ভুট্টা সরবরাহ আসতে পারছে না সেজন্য বিশ্বজুড়ে পোল্ট্রি ফিড-এর দাম
বেড়েছে। এর ফলে বাজারে মুরগী ও ডিমের দাম বেড়ে গেছে। বিশ্বজুড়ে যেসব
ভোজ্য তেল ব্যবহার হয় তার মধ্যে সানফ্লাওয়ার তেল প্রায় ১৩ শতাংশ। এর
প্রায় ৭৫ শতাংশই আসে ইউক্রেন এবং রাশিয়া থেকে।বাংলাদেশে তার চাহিদার ৮০
শতাংশ গম আমদানি করে। এর অর্ধেক আসে ইউক্রেন এবং রাশিয়া থেকে।