মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত বেশির ভাগ শুল্ককে বেআইনি ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল সার্কিট কোর্ট অব আপিলস। আদালতের এ রায় ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নীতির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন আপিল আদালতে ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের বেশির ভাগ বেআইনি ঘোষণা





৭-৪ ভোটে দেওয়া রায়ে আদালত জানায়, ট্রাম্প প্রশাসনের পাল্টা শুল্ক আরোপের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চীন, কানাডা ও মেক্সিকোর বিরুদ্ধে আরোপিত কিছু শুল্ককে সরাসরি বেআইনি বলা হয়। তবে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক এই রায়ের আওতায় আসেনি, কারণ সেগুলো ভিন্ন আইনি ক্ষমতার ভিত্তিতে আরোপিত হয়েছিল।
রায়ে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টদের নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকরা সংখ্যাগরিষ্ঠ মত দিয়েছেন, আর রিপাবলিকানদের নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজন বিচারক ভিন্নমত দেন।
ট্রাম্প শুল্ককে কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতেন। বিভিন্ন দেশকে চাপ দিয়ে নতুন চুক্তিতে আনার চেষ্টা করতেন। এতে কিছু বাণিজ্যিক ছাড় পাওয়া গেলেও আর্থিক বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। আদালতের রায়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে একে পক্ষপাতদুষ্ট বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, এসব শুল্ক উঠে গেলে যুক্তরাষ্ট্র ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
শুল্ক আরোপের জন্য ট্রাম্প ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট ব্যবহার করেন, যা আগে শত্রু দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ জব্দের ক্ষেত্রে প্রয়োগ হতো। ট্রাম্প প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি এই আইনের আওতায় শুল্ক আরোপ করেন। তবে আদালতের মতে, কংগ্রেস কখনোই প্রেসিডেন্টকে সীমাহীন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয়নি।
বর্তমানে ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ককে ঘিরে অন্তত আটটি মামলা চলছে। এসব মামলার রায় নির্ধারণ করবে তাঁর বাণিজ্য নীতির ভবিষ্যৎ।