বর্তমান সময়ে ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সাধারণত এই জ্বরে শরীর ক্লান্ত, পেশিতে ব্যথা, মুখে তিক্ত স্বাদ এবং অরুচির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। ভাইরাল জ্বরের সময় রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায় এবং পুষ্টির চাহিদাও বেড়ে যায়। তাই সঠিক চিকিৎসার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত হলে কী খাবেন, কী বর্জন করবেন





কী খাবেন
১. সহজপাচ্য শক্তির উৎস: ভাইরাল জ্বরে শরীর দ্রুত শক্তি হারায়। তাই সহজপাচ্য এবং শক্তিদায়ক খাবার যেমন পাতলা সুজি, ভাতের মাড়, জাউভাত, সাগু, নরম খিচুড়ি, ওটস এবং মিষ্টি আলু খেতে পারেন।
২. প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার: প্রোটিন শরীরের শক্তি বজায় রাখে এবং পেশির ক্ষয় রোধ করে। ডিমের সাদা অংশ, মুরগির বুকের মাংস, তৈলাক্ত ও সামুদ্রিক মাছ, দুগ্ধজাত খাবার, ছোলা, মসুর ডাল, সয়া এবং বাদাম খাওয়া উচিত।
৩. ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার:
ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। পেয়ারা, কমলা, লেবু, আমলকী ইত্যাদি খেতে পারেন।
ভিটামিন এ ও ডি চোখের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। গাজর, কুমড়া, রঙিন শাকসবজি, আম, পেঁপে, ডিমের কুসুম, দুগ্ধজাত খাবার এবং মাছের তেল উপকারী।
ভিটামিন ই বাদাম, সূর্যমুখী তেল, ডিম, মাছ ও মাংস থেকে পাওয়া যায়।
৪. দেহের পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট বজায় রাখুন: ভাইরাল জ্বরে ঘামের মাধ্যমে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইড ইত্যাদি হারানো হয়। ওরস্যালাইন, ডাবের পানি, ভাতের মাড়, তাজা ফলের রস (চিনি ছাড়া), টক দইয়ের লাচ্ছি, মিল্কশেক বা হালকা স্যুপ খাওয়া যেতে পারে।
৫. প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করুন: আনারস, পেঁপে, রসুন, হলুদ, কালো গোলমরিচ ইত্যাদি অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান রোগের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। মুখের তিতা ভাব দূর করতে লেবু ও লবণ দিয়ে গার্গল করতে পারেন। তুলসী, পুদিনা, লং এবং মধু দিয়ে হারবাল চা বানিয়ে পান করা উপকারী।
কী খাবেন না
অতিরিক্ত ফ্যাট ও ভাজাপোড়া খাবার
চিনি বা সোডাযুক্ত পানীয়
বাইরের সংক্রমণযুক্ত বা অপরিষ্কার খাবার
ল্যাকটোজ হজমে সমস্যা হলে সাধারণ দুধের পরিবর্তে ল্যাকটোজ-ফ্রি দুধ বা দই
সংক্ষেপে ভাইরাল জ্বরে সহজপাচ্য, প্রোটিন ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। ফ্যাট, চিনি এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি।