জুলাই সনদ নিয়ে মতভেদ এত প্রবল কেন?

মোট দেখেছে : 101
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

জুলাই সনদকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য এই সনদকে নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ভিন্ন। কেউ সংবিধান অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চান, আবার কেউ নতুন সংবিধান প্রণয়ন বা গণপরিষদ গঠনের দাবি তুলেছেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত গণতন্ত্র পুরোপুরি কার্যকর হয়নি বলেই মনে করেন অনেকে। এ কারণে গণতন্ত্রকে বাতিল করা সম্ভব নয়। তবে সংবিধানে বাঙালি জাতীয়তাবাদের জায়গায় বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার সমালোচনাও আছে। অনেকেই মনে করেন এর ভেতরে সাম্প্রদায়িকতার প্রভাব কাজ করেছে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। যেমন—নারী আসনে প্রত্যক্ষ ভোটের পরিবর্তে ধাপে ধাপে মনোনয়নের ব্যবস্থা, রাষ্ট্রধর্ম বহাল রাখা, মৌলনীতি থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেওয়া ইত্যাদি। এসব প্রস্তাব রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন করে মতভেদ তৈরি করেছে। বিএনপি বলছে আইনগত প্রস্তাব অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। জামায়াত চায় গণভোট অথবা রাষ্ট্রপতির ঘোষণার মাধ্যমে তা কার্যকর হোক। আর এনসিপি চায় গণপরিষদ গঠন করে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন।

জুলাই সনদের আইনি অবস্থান নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। এটিকে সংবিধানের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়ার প্রস্তাব আইন বিশেষজ্ঞদের কাছে অযৌক্তিক মনে হয়েছে। তাদের মতে, সংবিধানই দেশের সর্বোচ্চ আইন। এর ওপরে কোনো আইনকে স্থান দেওয়া হলে গণতান্ত্রিক কাঠামো প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর এই মতপার্থক্যের মধ্যেই বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতারা চীনের আমন্ত্রণে সফরে গেছেন। অথচ জুলাই সনদের খসড়া চূড়ান্ত না হওয়া সত্ত্বেও কেউ সফর থেকে বিরত থাকেননি। এ থেকেই বোঝা যায়, নীতি-আদর্শের চেয়ে দলগুলোর ভোটের রাজনীতি ও কৌশলই মূল প্রাধান্য পাচ্ছে।

অতএব, জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতভেদ কেবল নীতি নয়, বরং আগামী নির্বাচনের হিসাব–নিকাশ ও ক্ষমতার সমীকরণেই বেশি জড়িয়ে আছে।