বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ৪২% বৈষম্যের শিকার, সহপাঠীরাই সবচেয়ে দায়ী: আঁচল ফাউন্ডেশনের জরিপ

মোট দেখেছে : 92
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

নতুন জরিপে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৪২ জনই নানা রকম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এতে নারী শিক্ষার্থীর অংশ ৫১% এবং পুরুষ শিক্ষার্থীর ৪৯%। সবচেয়ে বেশি বৈষম্য দেখা যাচ্ছে তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে, যা প্রায় ৪০%।

এ বছরের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী এই জরিপ পরিচালনা করেছে বেসরকারি সংস্থা আঁচল ফাউন্ডেশন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বৈষম্যের শিকার শিক্ষার্থীরা মানসিক সমস্যার মধ্যে পড়েছেন এবং কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই।

জরিপে ১ হাজার ১৭৩ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ৫৬% পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের, ১৯% বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং ৫% মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী।

বৈষম্যের মূল কারণ:
জরিপ অনুযায়ী, সহপাঠীরাই সবচেয়ে বেশি বৈষম্য তৈরি করেন (৫৮%)। শিক্ষকের পরীক্ষার ফলাফলে বৈষম্য হয়েছে ৬০% শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে। শিক্ষকরা খারাপ আচরণ করেছেন ৫৫% শিক্ষার্থীর ওপর। লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য হয়েছে ৩০%, ধর্মীয় কারণে ১৯%, শারীরিক অক্ষমতা ৭%, জাতিগত পার্থক্য ৯%, আর্থিক কারণে ২৩%, শারীরিক অবয়ব ২৯% এবং রাজনৈতিক মত পার্থক্যের কারণে ৩০% শিক্ষার্থী বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়ী করেছেন ৩২% শিক্ষার্থী, এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে দায়ী করেছেন ১৫%।

বৈষম্যের অবস্থান:
শ্রেণিকক্ষে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন ৬০% শিক্ষার্থী। হল বা ডরমিটরিতে ১৯%, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ৩৭%, বন্ধু-বান্ধবের আড্ডায় ৩৮%, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহনে ১৮%, এবং লাইব্রেরি বা ক্যাফে-তেও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৈষম্যের শিকার ৩১% শিক্ষার্থী।

মানসিক সমস্যা:
বৈষম্যের শিকার ৯০% শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ৫৫% বিষণ্নতা, ৪৯% উদ্বিগ্নতা, ৩০% ঘুমের সমস্যা, ২২% প্যানিক অ্যাটাক, ৪৭% চাপ বা স্ট্রেস, ৪৩% একাকিত্ব এবং ৪১% হীনমন্যতায় ভুগছেন। ২১% শিক্ষার্থী ঠিকমতো ক্লাস করতে পারছেন না, ৫১% ক্লাস করলেও মনোযোগ দিতে পারছেন না।

প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও মানসিক সেবা:
মাত্র ২৫% শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ দেওয়ার পর কেবল ১১% শিক্ষার্থী জানিয়েছেন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ৭৫% অভিযোগ দেননি। ২২% শিক্ষার্থী মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছেন, বাকি ৭৮% সেবা নেননি।

বাংলাদেশ মেডিকেলের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সায়েদুল ইসলাম বলেন, মানসিক সমস্যার জন্য দ্বিধা না করে সাহায্য নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও মানসিক সেবা সহজলভ্য করা প্রয়োজন।

ছাত্র সংসদ ও আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রস্তাবনা:
ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবী হাবিবুর রহমান বলেন, ছাত্র সংসদ বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্য রোধে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে।
আঁচল ফাউন্ডেশন প্রস্তাব করেছে:

  • মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে মেন্টরিং

  • ছয় মাস অন্তর মানসিক স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং

  • বৈষম্য ও হয়রানি প্রতিরোধে মনিটরিং টিম

  • প্রতিটি বিভাগে অভিযোগ বক্স, নারী শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা কমপ্লেইন সেল

  • শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ

  • ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং সেন্টার

  • সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন আঁচল ফাউন্ডেশনের তানসেন রোজ, পারসপেক্টিভ-এর সিবগাতুল্লাহ সিবগা এবং যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মো. সোহেল মামু