সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে জমা পড়েছে ৭ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি আবেদন। ১০,২১৯ শূন্য পদের বিপরীতে প্রতি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন প্রায় ৭৩ জন। আবেদন যাচাই শেষে লিখিত পরীক্ষা ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে হতে পারে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে রেকর্ড আবেদন
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে এবারও চাকরিপ্রার্থীদের বিপুল সাড়া দেখা গেছে। নির্ধারিত সময় ২১ নভেম্বর আবেদন গ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, মোট ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯ জন আবেদনকারী এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন। অথচ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শূন্য পদের সংখ্যা দেখানো হয়েছিল মাত্র ১০ হাজার ২১৯টি। অর্থাৎ, প্রতি পদের বিপরীতে লড়াই করবেন প্রায় ৭৩ জন প্রার্থী।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ায় প্রাথমিক স্কুলগুলোতে বড় পরিসরে নতুন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া আবার শুরু হয়েছে। অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে—আবেদন যাচাই–বাছাই শেষ করে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন আহ্বান করা হয়। অন্য বিভাগের শূন্য পদগুলো পরবর্তী ধাপে অন্তর্ভুক্ত হবে বলে জানা গেছে।
এর আগে ২৮ আগস্ট ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’ গেজেট প্রকাশ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর তিন দিন পর আট সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নিয়োগ কমিটি গঠন করা হয়, যার চেয়ারম্যান প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। কমিটিতে মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো ও সরকারি কর্ম কমিশনের প্রতিনিধিরাও যুক্ত আছেন।
তবে সংশোধিত বিধিমালায় কিছু ত্রুটি থাকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে বিলম্ব হয়। পরবর্তীতে ২ নভেম্বর সংশোধিত বিধিমালা নতুনভাবে জারি করা হয়। নতুন সংস্করণে ‘অন্যান্য বিষয়ে’ শব্দের পরিবর্তে ‘বিজ্ঞানসহ অন্যান্য বিষয়ে অন্যূন’ শব্দ সংযোজন করা হয়েছে—ফলে এবার বিজ্ঞান বিভাগের প্রার্থীরাও অগ্রাধিকার পাবেন।
এ ছাড়াও পদোন্নতি ও সরাসরি নিয়োগের নিয়মে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
-
প্রধান শিক্ষক : ৮০% পদোন্নতি, ২০% সরাসরি নিয়োগ
-
পদোন্নতির জন্য: কমপক্ষে ১২ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা, মৌলিক প্রশিক্ষণ ও স্থায়ী নিয়োগ থাকতে হবে
-
সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক—দুই পদের সরাসরি নিয়োগে: স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক/সম্মান ডিগ্রি (দ্বিতীয় শ্রেণি) আবশ্যক
-
শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ গ্রহণযোগ্য নয়
-
সরাসরি নিয়োগে বয়সসীমা: ৩২ বছর
আবেদন যাচাই-বাছাই, কেন্দ্র নির্ধারণ ও সার্বিক প্রস্তুতি শেষে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
English