স্কুল-কলেজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে শিক্ষাব্যবস্থায় সংকট গভীর—শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার

মোট দেখেছে : 55
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

স্কুল-কলেজের প্রশাসনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ শিক্ষাব্যবস্থায় মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার। কোচিং নির্ভরশীলতা, শিক্ষার মানের অবনতি, আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে দুরবস্থা ও ভবিষ্যৎ নীতিমালা নিয়ে তিনি বিশদ মন্তব্য করেন

স্কুল–কলেজের প্রশাসনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে—এ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার। তাঁর মতে, শিক্ষা ব্যবস্থাকে সঠিক পথে ফেরাতে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব দূর করা এখন সময়ের সবচেয়ে জরুরি কাজগুলোর একটি।

গতকাল বুধবার রাজধানীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত একটি আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক আবরার বলেন, কোচিং সেন্টার বা গাইডবই নিষিদ্ধ করলেই সমস্যা সমাধান হবে না। বরং অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা কেন এসবের ওপর নির্ভরশীল হচ্ছে—সে মূল কারণ খুঁজে বের করাই সবচেয়ে জরুরি। শিক্ষা মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে উদ্বেগ রয়েছে, তা দূর করতে বাস্তবসম্মত ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন প্রয়োজন।

তিনি জানান, প্রদত্ত তথ্য–উপাত্ত শিক্ষার মানোন্নয়নে ভবিষ্যৎ নীতিমালার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া বাংলাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে কোথায় অবস্থান করছে, তা জানার জন্য সরকার ইতোমধ্যে একটি আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন কাঠামোর সদস্য হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

অধ্যাপক আবরারের মতে, শিক্ষার্থীদের পাঠবোঝাপড়া এবং গণিতে দক্ষতা—উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য দুর্বলতা রয়েছে, যা আরও বড় পরিসরে মূল্যায়নের প্রয়োজন নির্দেশ করে।

পূর্বে পরীক্ষাবিহীন ফল প্রকাশের সিদ্ধান্তকে "অগ্রহণযোগ্য" উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ শিক্ষাব্যবস্থাকে পিছিয়ে দিয়েছে, যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এখনো কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব শিক্ষার মানকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। স্কুল–কলেজ পরিচালনায় দলীয় হস্তক্ষেপ না কমালে প্রকৃত অর্থে মানোন্নয়ন সম্ভব নয়।

মাধ্যমিক শিক্ষার বিস্তৃত মূল্যায়ন নিয়ে কসরুজ্জামান আহমেদের নেতৃত্বে যে কাজ চলছে, তাও আলোচনায় আসে। তিনি গবেষকদের সঙ্গে ভবিষ্যতে বিস্তারিত আলোচনা করে বাস্তবসম্মত নীতিমালা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষা উপদেষ্টা আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে গবেষণা ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।